৬.৩ ওভারে ম্যাচ জেতায় বড় বিপদের মুখে কোহলির দল

শেষ দুই ম্যাচে ভারত কী সমীকরণ নিয়ে মাঠে নামবে, সেটা সবার জানা ছিল। স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে দিতে হবে, রানরেট বাড়িয়ে নিতে হবে। এরপর আফগানিস্তান–নিউজিল্যান্ড ম্যাচে আফগানিস্তানের জয়ের অপেক্ষায় থাকতে হবে।

সে ম্যাচে আফগানিস্তান জয়ী হলে আফগানিস্তানের রানরেট জেনে তারপর শেষ ম্যাচে নামবে ভারত। আর সুপার টুয়েলভের শেষ ম্যাচে সব তথ্য জেনে নামিবিয়াকে উড়িয়ে দিতে হবে।

গতকাল নিজেদের পরিকল্পনার প্রথম অংশ ভালোভাবেই শেষ করেছে ভারত। স্কটল্যান্ডকে ৮৫ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৮ উইকেটের জয় পেয়েছে ভারত।

সে জয়ও এসেছে ৮১ বল হাতে রেখে। ফলে, রানরেটে শুধু নিউজিল্যান্ড নয়, আফগানিস্তানকেও টপকে গেছে ভারত।

কিন্তু এতটা দাপট দেখানো জয়ে আসলেই কি ভারতের লাভ হলো? প্রশ্নটা শুনে অবান্তর ঠেকতে পারে। কারণ, এত দিন সব হিসাব–নিকাশ হলো ভারতের রানরেট বাড়ানো নিয়ে।

এখন যখন ভারতের রানরেট সবার চেয়ে বেশি হয়ে গেল, তখন লাভ ছাড়া অন্য কিছু হওয়ার কথা ভাবা তো কঠিন।

কিন্তু একটু ভাবলেই হয়তো লাভ-ক্ষতির হিসাবটা পরিষ্কার হবে। প্রথমেই এই গ্রুপের অবস্থাটা জেনে নেওয়া যাক। পাকিস্তান আগেই সেমিফাইনালে চলে গেছে।

আগামীকাল বিস্ময় জাগিয়ে স্কটল্যান্ডের কাছে হেরে না বসলে তাদের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা নিশ্চিত। বাকি জায়গাটার জন্যই লড়াই চলছে ভারত, নিউজিল্যান্ড ও আফগানিস্তানের মধ্যে।

৬ পয়েন্ট পাওয়া নিউজিল্যান্ড আছে সবচেয়ে সুবিধাজনক স্থানে। তাদের রানরেটও খারাপ নয়, ১.২৭৭। শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় পেলে এবং পাকিস্তান নিজেদের ম্যাচে হেরে গেলে তারা গ্রুপের শীর্ষে চলে যাবে।

৪ পয়েন্ট নিয়ে এরপরই আছে ভারত ও আফগানিস্তান। ভারত গতকালের জয়ে রানরেট বাড়িয়ে নিয়েছে অনেক।

দুই ম্যাচ আগেও নেতিবাচক রানরেটে ভারতের বর্তমান রানরেট ১.৬১৯। আর একসময় ৩–এর ওপর থাকা রানরেট কমে আফগানিস্তানের হয়েছে ১.৪৮১। আর এটাই কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে ভারতের জন্য। কীভাবে?

নিউজিল্যান্ড আগে থেকেই তাদের হিসাবটা জানত। রানরেট বাড়ানো নিয়ে তাদের ভাবতে হবে না। শুধু টানা দুই ম্যাচ জয় পেলেই চলবে।

আফগানদের কাছ হেরে বসলেই বাদ তারা। এ কারণে তাদের পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আসবে না। আফগানিস্তানের ক্ষেত্রে সেটি হচ্ছে না।

কাল পর্যন্ত তারা জানত নিউজিল্যান্ডকে হারালেই তাদের সেমিফাইনালে চলে যাওয়ার ভালো সম্ভাবনা। রানরেট বাড়িয়ে নিতে পারলে ভালো, না হলেও খুব ক্ষতি নেই।

ভারত রানরেটে অনেক পিছিয়ে থাকায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেলেই হয়তো হতো তাদের। কিন্তু কাল ভারত স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে দেওয়ায় এখন আফগানরাও পিছিয়ে পড়েছে।

এ কারণে এখন আফগানিস্তান আগামীকাল মাঠে নামবে, শুধু জয় পেলেই হবে না—এটা জেনে। নিউজিল্যান্ডকে এখন শুধু হারালেই চলবে না আফগানদের;

রানরেট এমন এক অবস্থানে নিতে হবে, পরদিন যেন ভারত সেটা স্পর্শ করতে না পারে। রানরেটে এখন যে হিসাব, তাতে ভারতের চেয়ে আফগানিস্তানের জয়ের ব্যবধান ১১ বেশি হতে হবে।

অর্থাৎ, পরদিন ভারত যদি নামিবিয়াকে অন্তত ৪৫ রানে হারায় (পাকিস্তান যে ব্যবধানে হারিয়েছিল), তার আগের দিন আফগানিস্তানের জয়ের ব্যবধান অন্তত ৫৬ রানের হতে হবে।

এদিকে নামিবিয়া যেহেতু আফগানিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের সঙ্গেই অন্তত ৪৫ রানের ব্যবধানে হেরেছে, তাতে ৮ নভেম্বর ভারতের জয়ের ব্যবধানও যে বড় হবে, এটা ধরে নেওয়াই নিরাপদ।

এ কারণে আফগানিস্তান যদি আসলেই সেমিফাইনালের স্বপ্ন দেখে, তাহলে স্বাভাবিক চিন্তা বাদ দিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মারকাটারি ব্যাটিং করতে হবে।

যে বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে পাকিস্তান ও ভারতের ব্যাটসম্যানদের ভুগতে হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে এমন ব্যাটিং বিপদ ডেকে আনতেই পারে।

বিশেষ করে এমন এক দলের সঙ্গে যাদের কখনো কোনো সংস্করণে হারাতে পারেনি আফগানিস্তান। আর তখন বড় ব্যবধানে ম্যাচ জেতা তো দূরের কথা, হেরে বসার আশঙ্কাই বেশি।

এছাড়া মানসিক দিকটাও তো আছেই। কাগজে-কলমে যতই বলা হোক, আফগানদের জয়ের ব্যবধান ভারতের চেয়ে ১১ বেশি হলেই সেমিফাইনালে যাবেন রশিদ খানরা; বাস্তবে সেটা যে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রায় অসম্ভব সেটা তাঁরাও জানেন।

ফলে জিতলেও সেমিতে যাওয়া হচ্ছে না, এটা মেনেই মাঠে নামবে আফগানিস্তান। এমন মানসিকতা নিয়ে জয় পাওয়া কঠিন। আর আফগানিস্তানের হার মানেই পরদিন ভারতের ম্যাচটি অর্থহীন হয়ে পড়া!

Related Posts

5 thoughts on “৬.৩ ওভারে ম্যাচ জেতায় বড় বিপদের মুখে কোহলির দল

  1. India is nothing but a paper tiger. Played won like tigers against Scot and others and will also Play great against Namibians.But played into a mousetrap against Pakistan and Newzealand..I think nindian selection should come out of reputation trap and include players like Iyer Rituraj and paddikkal and y. Chahal the india captain’s game management deplorable. He should explain why aswin not used?

  2. ভারতের পক্ষে সেমি ফাইনালে যাওয়া কার্যত কঠিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *