বিশ্বের বড় বড় দেশের জাতীয় দলে ভারতীয় ক্রিকেটারদের ছড়াছড়ি

তানভির সাংগা থেকে রাচিন রবীন্দ্র- অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের এই ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটাররা জাতীয় দলে ডাকা পেলেও এখনও সিনিয়র পর্যায়ে তাঁদের আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়নি।

কিন্তু রোহন কানহাই থেকে নাসের হুসেন, হাসিম আমলা থেকে শিবনারায়ণ চন্দ্রপলের মতো ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটাররা নিজেদের দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্বমহিমায় উজ্জ্বল, এমনকী কয়েকজন আবার দেশকে নেতৃত্বও দিয়েছেন। এমন ক্রিকেটারদের কয়েকজনের দিকে নজর রাখা যাক।

নাসের হুসেন

ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা বর্তমানে ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার নাসের হুসেনের জন্ম মাদ্রাজ (বর্তমানে চেন্নাই)-এ। তাঁর পিতা রাজা জাওয়াদ জো হুসেন তামিলভাষী মুসলিম, তিনি ক্রিকেট ও হকিও খেলতেন। নাসের হুসেন অষ্টাদশ শতকে বর্তমান তামিলনাড়ুর রানিপেট জেলার আরকোটের নবাব মুহাম্মদ আলি খান ওয়াল্লাহজার বংশধর।

নাসের হুসেন ইংল্যান্ডের হয়ে ৯৬টি টেস্ট খেলেছেন। ১৪টি শতরান ও ৩৪টি অর্ধশতরান-সহ টেস্টে তাঁর রান ৫৭৬৪। ৮৮টি একদিনের আন্তর্জাতিকে একটি শতরান ও ১৬টি অর্ধশতরান-সহ ২৩৩২ রান রয়েছে নাসেরের।

রবি বোপারা

ইংল্যান্ডের আরেক প্রাক্তন রবি বোপারারও আছে ইন্ডিয়ান কানেকশন। পুরো নাম রবীন্দর সিং বোপারা। জন্ম লন্ডনের ফরেস্ট গেটে হলেও শিখ রবি বোপারার পূর্বসূরীরা ভারতে থাকতেন।

১২০টি একদিনের আন্তর্জাতিকে অলরাউন্ডার বোপারা ২৬৯৫ রান করার পাশাপাশি ৪০টি উইকেট নিয়েছেন। টেস্ট খেলেছেন ১৩টি, রান করেছেন ৫৭৫, একটি উইকেট রয়েছে।

মন্টি পানেসর

দেশের হয়ে ৫০টি টেস্টে ১৬৭টি উইকেট রয়েছে মন্টি পানেসরের। ২৬টি একদিনের আন্তর্জাতিকে ২৬ ম্যাচে ২৪টি উইকেট রয়েছে তাঁর। ইংল্যান্ডের হয়ে ১টি টি ২০ ম্যাচ খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে, ২টি উইকেট পেয়েছিলেন।

২০০৬ সালে নাগপুর টেস্টেই অভিষেক হয় পানেসরের। তাঁর পুরো নাম মুধসুদেন সিং পানেসর। তিনিও ভারতীয় বংশোদ্ভূত হয়েই ইংল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক খেলেছেন। বোপারার মতো তাঁরও জন্ম ইংল্যান্ডেই, বেডফোর্ডশায়ারের লুটনে।

হাসিম আমলা

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন ক্রিকেটার হাসিম আমলার জন্ম ডারবানের নাটালে হলেও তিনি মধ্যবিত্ত গুজরাতি মুসলিম পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। ১২৪টি টেস্টে আমলা ৯২৮২ রান করেছেন। সর্বাধিক অপরাজিতত ৩১১।

২৮টি শতরান ও ৪১টি অর্ধশতরান করেছেন। ১৮১টি একদিনের আন্তর্জাতিকে ৮১১৩ রান করেছেন। ২৭টি সেঞ্চুরি ও ৩৯টি হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে ওয়ান ডে-তে। ৪৪টি টি ২০ আন্তর্জাতিকে ১২৭৭ রান করেছেন আমলা। আটটি অর্ধশতরান রয়েছে।

নিউজিল্যান্ডের ত্রয়ী

নিউজিল্যান্ডের লেগ স্পিনার ইস সোধির জন্ম ১৯৯২ সালে পাঞ্জাবের লুধিয়ানায়। সোধির যখন চার বছর বয়স তখন তাঁর পরিবার নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। ১৭টি টেস্টে ৪১টি উইকেট রয়েছে ইস সোধির।

৩৩টি একদিনের আন্তর্জাতিক ও ৫৭টি টি ২০ আন্তর্জাতিকে যথাক্রমে ৪৩ ও ৭৩টি উইকেট রয়েছে তাঁর। নিউজিল্যান্ডেরই প্রাক্তন ক্রিকেটার জিতন প্যাটেল ওয়েলিংটনে জন্মগ্রহণ করলেও তাঁর পূর্বসূরীরা থাকতেন গুজরাটের নবসারিতে।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে ২৪টি টেস্ট ও ৪৩টি একদিনের আন্তর্জাতিকে যথাক্রমে ৬৫টি ও ৪৯টি উইকেট রয়েছে জিতনের। নিউজিল্যান্ডের আরেক প্রাক্তন দীপক প্যাটেলের আবার জন্ম কেনিয়ার নাইরোবিতে। কিন্তু তাঁর পূর্বসূরীরা ভারতীয়।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ও কেনিয়া-জাত দীপক খেলেছেন নিউজিল্যান্ডের হয়ে। মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন, বল করতেন অফ স্পিন। ৩৭টি টেস্টে ৭৫টি ও ৭৫টি একদিনের আন্তর্জাতিকে ৪৫টি উইকেট রয়েছে দীপক প্যাটেলের।

ক্যারিবিয়ান ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা

রোহন কানহাই থেকে শিবনারায়ণ চন্দ্রপল, নরসিং দেওনারাইন থেকে সুনীল নারিন, এমন অনেক ভারতীয় বংশোদ্ভূতকেই খেলতে দেখা গিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে।

গায়ানাতে প্রচুর ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা রয়েছেন। রোহন কানহাইয়ের জন্ম গায়ানাতে হলেও তাঁর পূর্বসূরীরা ভারতীয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৭৯টি টেস্টে ৬২২৭ রান রয়েছে রোহন কানহাইয়ের।

১৫টি শতরান ও ২৮টি অর্ধশতরান-সহ। গায়ানারই আরেক গর্ব শিবনায়ারণ চন্দ্রপলও ভারতীয় বংশোদ্ভূত। ১৬৪টি টেস্টে ১১৮৬৭ রান করেছেন, ৩০টি শতরান ও ৬৬টি অর্ধশতরান-সহ।

একদিনের আন্তর্জাতিকে ২৬৮টি ম্যাচে ৮৭৭৮ রান করেছেন, ১১টি শতরান ও ৫৯টি হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে। ২২টি টি ২০ আন্তর্জাতিকে তাঁর রান ৩৪৩। কানহাই, চন্দ্রপলের মতো আরেক ক্যারিবিয়ান প্রাক্তন নরসিং দেওনারাইন ১৮টি টেস্ট, ৩১টি একদিনের আন্তর্জাতিক ও ৮টি টি ২০ আন্তর্জাতিক খেলেছেন।

সুনীল নারিনের আবার জন্ম ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোব্যাগোতে। দেশের হয়ে তিন ফরম্যাটের ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও বড় ভরসা মিস্ট্রি স্পিনার নারিন।

আছেন আরও

অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার স্টুয়ার্ট ক্লার্ক অ্যাংলো ইন্ডিয়ান দম্পতির সন্তান। তাঁর পিতা ব্রুস ক্লার্ক চেন্নাইয়ের, তাঁর মা মেরি কোলার গোল্ড ফিল্ডসের। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২৪টি টেস্ট ও ৩৯টি একদিনের আন্তর্জাতিক খেলেছেন স্টুয়ার্ট ক্লার্ক।

টেস্টে ৯৪টি ও একদিনের আন্তর্জাতিকে তাঁর ৫৩টি উইকেট রয়েছে। কানাডার হয়ে খেলতেন আশিস বাগাই, তাঁর জন্ম দিল্লিতে। ১১ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে পাকাপাকিভাবে কানাডায় চলে যান। কানাডার হয়ে ৫৯টি একদিনের আন্তর্জাতিক খেলেছেন, রান করেছেন ১৯২২।

দুটি শতরান রয়েছ। ১৬টি অর্ধশতরানের পাশাপাশি ৫০টি ক্যাচ ধরেছেন এবং ৯টি স্টাম্পিং করেছেন। কেনিয়ার প্রাক্তন অলরাউন্ডার আসিফ করিমের জন্ম সে দেশে হলেও তাঁর পূর্বসূরীরা ভারতীয়।

কেনিয়ার হয়ে ৩৪টি একদিনের আন্তর্জাতিক খেলেছেন করিম, ২২৮ রান করার পাশাপাশি ২৭টি উইকেট রয়েছে। তিনি কেনিয়ার অধিনায়কত্ব যেমন করেছেন, তেমনই টেনিস দলের অধিনায়ক হওয়ারও বিরল নজির অলরাউন্ডার করিমের দখলে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *