কোচের যৌ;ন হেনস্থায় বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়ার পরও সেই মেয়েই ভারতের হয়ে ফুল ফোটাচ্ছেন

বছর খানেক আগের ঘটনা। বরোদার মহিলা দলের কোচ অতুল বেদাদের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনেন রাজ্যের সিনিয়র দলের ক্রিকেটাররা।

তাঁর বিরুদ্ধে যৌ;ন হেনস্থার অভিযোগ আনা হয়। এই ঘটনায় বরোদার কোচের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় অতুল বেদাদেকে। তাঁর বিরদ্ধে তদন্ত কমিটি বসে।

তবে এই ঘটনার মারাত্মক প্রভাব পড়েছিল ইয়াস্তিকা ভাটিয়ার উপর। অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে তৃতীয় একদিনের ম্যাচে যিনি নজর কেড়েছেন।

তাঁকেও কোচের যৌ;ন হেনস্থার শিকার হতে হয়েছিল। আর এই ঘটনায় মানসিক ভাবে একেবারে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলেন ইয়াস্তিকা। যে কারণে বরোদার হয়ে সেই সময়ে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচও তিনি খেলতে পারেননি।

এই পরিস্থিতি কাটাতে তাঁকে চিকিৎসকের সাহায্য নিতে হয়। তাঁর বোনও মেডিসিনের ছাত্রী, তিনিও এই পরিস্থিতি থেকে ইয়াস্তিকাকে বের করে আনতে সাহায্য করেন।

সেই ইয়াস্তিকাই এখন সেই অন্ধকার সময় পেরিয়ে আলোর পথযাত্রী। জাতীয় দলের জার্সিতে তিনি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ফুল ফোটাচ্ছেন।

বরোদা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের মেয়েদের নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান রাজকুভারদেবী গায়কোয়াড় পুরনো প্রসঙ্গ তুলে বলেছেন,

‘খুবই কঠিন সময় ছিল ইয়াস্তিকার জন্য। সেই পরিস্থিতি থেকে বের হতে চিকিৎসকের পরামর্শ ওকে নিতে হয়েছিল। ওর বোন, যিনি মেডিসিন নিয়ে পড়ছেন, তিনিও এই ট্রমা থেকে ওকে বের করে আনতে সাহায্য করেছিলেন। ওর বাবা-মাও ওর পাশে এই সময়ে দাঁড়িয়েছিলেন, যাতে এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে ও বের হয়ে আসতে পারে। সেখান থেকে ও ধীরে ধীরে বের হয়ে আসে। অনুশীলন শুরু করে। তার পর থেকে ও যে খেলাটা শুরু করল, সেটা অন্য মাত্রায় নিয়ে গেল। কঠোর পরিশ্রমী হয়ে উঠল। সেই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে এসে ও ভারতের হয়ে খেলার জন্য পুরো মনোনিবেশ করে দিয়েছিল।’

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজ ভারত হারলেও ভরসা জুগিয়েছেন ২১ বছরের ইয়াস্তিকা। অভিষেক ম্যাচে তিনি ৩৫ রান করেছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচে অবশ্য ব্যর্থ হন। ৩ রান করে আউট হয়ে যান।

কিন্তু ঘুরে দাঁড়ান তৃতীয় ম্যাচে। সেই ম্যাচে নিজের ব্যাটিং দক্ষতা দেখিয়েছেন ইয়াস্তিকা। ৬৯ বলে ৬৪ রানের ঝকঝকে একটি ইনিংস খেলেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে ভদোদরা থেকে জাতীয় দলের শিবিরের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ইয়াস্তিকা। সেখানে তিনি পারফরম্যান্স করে অধিনায়ক মিতালি রাজের চোখে পড়েন। তার পরেই অস্ট্রেলিয়াগামী সফরের জন্য নির্বাচিত হন।

গায়কোয়াড় বলেছেন, ৭ বছর বয়স থেকে তিনি ইয়াস্তিকাকে চেনেন। খুব সামনে থেকেই তাঁর প্রতিটি লড়াই দেখেছেন গায়কোয়াড়।

বলছিলেনও, ‘ভারতীয় শিবির চলাকালীন ও ভাল রান করেছিল। সম্প্রতি বরোদার হয়েও ও ভালো খেলছিল। এবং জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার জন্য মরিয়া ছিল। ’

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *